777JAYA: চীন ও আমেরিকা যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন? ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা এতটাই অবাস্তব
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করাতে চান—এ নিয়ে আলোচনা উঠেছে। কিন্তু এটা ঘটার কোনো সম্ভাবনাই নেই!
ট্রাম্প বলেছেন, পরের বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় মেক্সিকো ও কানাডাকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশ বেছে নেওয়া উচিত। তিনি আরও ফাঁস করেছেন: «ইনফান্তিনোর আরেকটা ভাবনা আছে। তিনি বলেছেন আমরা এভাবে চেষ্টা করতে পারি—চীন আর যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করুক। তাহলে ম্যাচের ফাঁকে ফ্লাইট খুব ছোট হবে। খেলোয়াড়রাও পছন্দ করবে।»
ট্রাম্প কি যেমন তেমন বলে ফেলেছেন, নাকি ইনফান্তিনো সত্যিই এমন কথা বলেছেন—সেটা জানা নেই। কিন্তু চীন-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিশ্বকাপ বাস্তবে নামানোর কোনো সুযোগই নেই!

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র কনকাকাফের অন্তর্গত, চীন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের—মহাদেশ পেরিয়ে যৌথ আবেদনই বিশাল বাধা। ২০৩০-এ স্পেন-পর্তুগাল-মরক্কোর যৌথ আয়োজন সম্ভব হয়েছিল কারণ তারা ইউরোপ ও আফ্রিকার সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী; উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়েও প্রতিবেশী, আর তারা শুধু একটি করে ম্যাচ আয়োজন করে। ২০০২ কোরিয়া-জাপান এবং এবারের বিশ্বকাপ—সবই একই মহাদেশের দেশগুলোর সহযোগিতা। ফিফা কখনো সমুদ্র পেরিয়ে দুই মহাদেশে বিভক্ত যৌথ আবেদন অনুমোদন করেনি।
দ্বিতীয়ত, মহাসাগর পেরোনো ভৌগোলিক ফাঁক এমন সমস্যা তৈরি করে যা সমাধান করা যায় না। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরের দুই পাশে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে; সময়ের ব্যবধান ১২–১৫ ঘণ্টা। ৪৮ দলের ফরম্যাটে মোট ১০৪ ম্যাচ—দলগুলোকে বারবার চীন-যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হবে, একমুখী ফ্লাইটই ১২ ঘণ্টার বেশি। দীর্ঘ ফ্লাইট খেলোয়াড়দের শরীর ভেঙে দেবে, টুর্নামেন্টের ন্যায্যতাই নষ্ট করবে।
তৃতীয়ত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, কাস্টমস ও প্রবেশ নীতি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এবারের বিশ্বকাপে ইরান দলের মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধে সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াতের বিশৃঙ্খলা দেখেই বোঝা যায়—অনেক দেশের দল ভিসা যাচাই, সরঞ্জামের সীমান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ইত্যাদি একাধিক বাধায় পড়বে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও লজিস্টিক্সের চাপ কয়েকগুণ বাড়বে; দর্শকদের আন্তঃদেশীয় ভ্রমণ খরচ ও কাস্টমস প্রক্রিয়াও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
চতুর্থত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যৌথ আয়োজনের চুক্তিতে পৌঁছানোই কঠিন। যৌথ বিশ্বকাপ মানে দুই দেশে একক আয়োজক কমিটি, একই নিরাপত্তা মান, ম্যাচ পরিচালনা, বাণিজ্যিক ভাগাভাগি, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সেন্সরশিপ—সব নিয়ম একসঙ্গে ঠিক করা। অথচ প্রতিটি ক্ষেত্রে দুই দেশের দাবি এতটাই আলাদা যে একমত হওয়া প্রায় অসম্ভব।
পঞ্চমত, বাণিজ্যিক ও অবকাঠামো খরচ ভাগের দ্বন্দ্বের কোনো সমাধান নেই। বিশ্বকাপের হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে আগেই স্টেডিয়াম নির্মাণ, পরিবহন অবকাঠামো ও আয় ভাগের সূত্র ঠিক করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর তৈরি বড় স্টেডিয়াম আছে—তারা ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফোকাস গ্রুপ ম্যাচ চাইবে, বৈশ্বিক সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক সম্পদ একচেটিয়া করতে চাইবে। চীনকে অনেক পেশাদার ফুটবল মাঠ নতুন করে বানাতে বা সংস্কার করতে হবে; তারা দেশীয় পর্যটন ও বাজারের প্রচারমূলক আয় বেশি দেখবে। দুই অর্থনীতির আকার, ফুটবল বাজার ও টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা—ম্যাচ সংখ্যা, অর্থ বিনিয়োগ ও লাভের ভাগ সমান করা কঠিন; সহজেই এক পক্ষ বেশি খরচ করে কম পাওয়ার অচলাবস্থায় পড়তে পারে।
সংক্ষেপে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিশ্বকাপ শুধু তত্ত্বীয় মৌখিক কল্পনা; বাস্তবে নামানো একেবারেই অসম্ভব।


পরবর্তী নিবন্ধ: নেই
বাংলা তথ্য[0]
বাংলা তথ্য[0]